আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রামে এক সাংবাদিকের ঘরের বিছানায় বিষধর গোখরা সাপ পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙা ইউনিয়নের চর গয়টাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক মোঃ বেলাল হোসেনের মা প্রতিদিনের মতো রাতে শোয়ার আগে বিছানা ঝাড়ু দিতে গেলে হঠাৎ বিছানার মাঝখানে একটি গোখরা সাপ দেখতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি চিৎকার দিলে দ্রুত ছুটে আসেন পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন। পরে সবাই মিলে সাপটি মেরে ফেলে। সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ ফুট।
সাংবাদিক মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, আমার মা যদি সময়মতো সাপটি দেখতে না পেতেন, তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। অল্পের জন্যই আমরা রক্ষা পেয়েছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান জানান, চরাঞ্চল হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। তবে সাপের উপদ্রব থেকে বাঁচতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
এদিকে গোখরা সাপ সম্পর্কে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা বলেন, গোখরা দেশের সর্বত্রই দেখা যায়। সাধারণত বসতবাড়ির আশপাশে, ছোট ঝোপঝাড়, ইঁদুরের গর্ত বা পুরাতন ভবন বা ইটের ফাঁকফোকরে সাপটি বাস করে। কিছুটা ধূসর বাদামি বর্ণের এই সাপটি লম্বায় প্রায় দেড় থেকে দুই মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। দ্রুত চলাফেরা ও সাঁতার কাটায় এরা খুবই দক্ষ। সাপটি ব্যাঙ, গিরগিটি, ছোট পাখি ছাড়াও ইঁদুর ও কীটপতঙ্গ খেয়ে কৃষকের উপকার করে, যা কৃষকের শস্যভাণ্ডার পূর্ণ করতে সাহায্য করে। আর এতে খাদ্যশৃঙ্খলেও সুস্থতা থাকে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণত বর্ষাকালে (মার্চ থেকে জুলাই) একটি মা সাপ ১২ থেকে ৩০টি ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা হতে প্রায় ৬০ দিন সময় লাগে। এই সাপের বিষ নিউরোটক্সিন প্রকৃতির, যা দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে ও স্নায়ুতন্ত্রকে অকেজো করে দেয়। তাই দংশনের শিকার হলে ওঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যেতে হবে।